Posts

Showing posts with the label পড়ে দেখি

যে জিনিস আমার নয় তার জন্য শোক করে কি হবে?

Image
শরীর আমাদের সঙ্গে এক মুহূর্তও থাকেনা কিন্তু পরমাত্মা থাকেন সর্বক্ষণ। বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহ্ণাতি নরোহপরাণি । তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী ॥২২॥ এই জগৎসংসার সর্বদাই পরিবর্তনশীল। জগৎ সংসারকে একবারও দেখতে পাওয়া যায় না। কারণ শরীর, সকল ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি ইত্যাদি যে করণ দ্বারা আমারা জগতকে দেখি, জগতকে অনুভব করি সে গুলো ও জগতেরই। সুতরাং জগতই জগতকে দেখে।এই জগৎসংসারে শরীর কেবল একটি ছোট্ট প্রতীক।উৎপত্তির পূর্বে শরীর ছিল না, মৃত্যুর পরেও শরীর থাকবে না এবং বর্তমানেও তা লয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এই জগতে মাত্র দুই প্রকার বস্তু আছে, শরীরী এবং শরীর। এই দুটিই অশোচ্য। অর্থাৎ এর জন্য শোক করা উচিত নয়। যে জিনিসটি নিজের নয় আর যে জিনিসটি নিজের তাকে নিজের মনে না করা বিরাট ভুল। শরীর আমাদের সঙ্গে এক মুহূর্তও থাকেনা কিন্তু পরমাত্মা থাকেন সর্বক্ষণ। ও যেমন পরম থাকেন নিরাকারে খেলছেন খেলা নিরেতে আর জীবআত্মা জীবিত থাকে পরমআত্মার জোরেতে এই আদি সত্য পরম যিনি জীব দেহ চালাচ্ছেন তিনি। জীবের মত ভগবানও ক্ষেত্রজ্ঞ, চেতন। তবে আমরা কেবল আমাদের দেহ সম্বন্ধে সচেতন।কিন্তু ভগবান সমস্ত দেহ সম্বন্ধে সচে...

৩ মাস ধরে জ্বলেছিল এই পৃথিবী সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯তলা গ্রন্থাগার!

Image
প্রায় ৭০০ বছর ধরে বিশ্বকে শিক্ষার আলো দেখিয়ে গেছে যে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে কিন্তু ১২শ শতাব্দীতে জ্বালিয়ে দেওয়া হল। মনে করা হয় সেই আগুনে তিন মাস ধরে জ্বলেছিল। আগুণ আর ধোয়ায় আস্তে আস্তে বিলীন হয়ে গেছিল এতদিনের সংরক্ষণের জ্ঞানের ভাণ্ডার।  ভারতবর্ষ। শিক্ষা থেকে সংস্কৃতি সর্বত্রই অগাধ বিস্তার। আজ থেকে প্রায় ১৫০০ বছর আগে গুপ্ত সম্রাটগণ এবং কনৌজের সম্রাট হর্ষবর্ধনের পৃষ্ঠপোষকতায় বিকাশ ঘটেছিল বিশ্বের সব থেকে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি নালন্দার। নালন্দা নামটি এসেছে তিনটি শব্দ থেকে।  ন + আলম + দা। যার মানে করলে দাড়ায় অবিরত দান”।  গল্প নয়, সত্যি! লটারির টাকায় তৈরি হয়েছিল আজকের কলকাতা এই বিশ্ববিদ্যালয় ছিল জ্ঞানের ভাণ্ডার। শুধুমাত্র ধর্মীয়গ্রন্থই নয় এখানে পড়ানো হত সাহিত্য, চিকিৎসাবিদ্যা, দর্শনশাস্ত্র, জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত, চিত্রকলার মত বিষয়। এই প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে পড়ানোর জন্য বানান হয়েছিল একটি গ্রন্থাগার যা অবস্থিত ছিল তিনটি বহুতলবিশিষ্ট ভবন নিয়ে। ভবনগুলির নাম ছিল ‘রত্নসাগর’ (‘রত্নের মহাসাগর’), ‘রত্নোদধি’ (‘রত্নের সমুদ্র’) ও ‘রত্নরঞ্জক’ (‘রত্নখচিত’)। রত্নোদধি ছিল নয়টি ...

জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার ১৭২ বছর

Image
স্যার ম্যাকক্লিল্যান্ডের ১৮৪৮-৪৯ সময়কালের প্রথম রিপোর্টে ‘জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’ শব্দগুচ্ছ প্রথমবারের মতো ব্যবহূত হয়। কলকাতা। যার ঐতিহাসিক গুন বেড়েই চলেছে দিন দিন। নানা জানা অজানা ইতিহাসের সাক্ষী আজকের এই কলকাতা। আজ থেকে ১৭১ বছর আগে নৌপরিবহণ ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে ভারতীয় কয়লা ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কয়লা সংক্রান্ত একটি কমিটি (Coal Committee) গঠন করে। ১৮৩৭ ও ১৮৪৫ সালে কমিটির সচিব স্যার জন ম্যাকক্লিল্যান্ড প্রথমবারের মতো ট্রেনিংপ্রাপ্ত ভূতাত্ত্বিকদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন। স্যার ম্যাকক্লিল্যান্ডের ১৮৪৮-৪৯ সময়কালের প্রথম রিপোর্টে ‘জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’ শব্দগুচ্ছ প্রথমবারের মতো ব্যবহূত হয়। ১৮৫০ সালের ১ এপ্রিল তাঁর অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ‘অফিসিয়েটিং সার্ভেয়র’ হিসেবে ভূতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন। ১৮৫১ সালের ৫ মার্চ তারিখে স্যার টমাস ওল্ডহ্যাম ভূতাত্ত্বিক জরিপকারীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তখন থেকে অনেক নতুন খনিক্ষেত্র আবিষ্কারে ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানে বিরাট সাফল্য-অর্জনে ‘জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার’ উজ্জ্বল কৃতিত্ব...

"হয়তো আর কোনওদিনই ফেরা হবে না!’’- আজও আছে মানিকতলা খ্রিস্টান গোরস্থানে

Image
  তরু আজও আছে মানিকতলা খ্রিস্টান গোরস্থানে নয়ত শুধু ১২, রমেশ দত্ত স্ট্রিটে তাঁর নিজের ভুবনে।   ‘‘হয়তো কোনও একদিন ফিরব। হয়তো আর কোনওদিনই ফেরা হবে না!’’ তরু দত্ত। প্রথম বাঙালি মহিলা, যিনি ফরাসি এবং ইংরেজি এই দুই ভাষাতেই লেখার জন্য এখনও আলোচিত। মাইকেল মধুসূদন দত্ত যদি বিদেশি ভাষায় সাহিত্য রচনার জন্য বাঙালি হিসেবে অগ্রণী পুরুষ হন, মেয়েদের মধ্যে ছিলেন তরু দত্ত। মাত্র ২১ বছরের জীবনে ঝড় তুলেছিলেন সাহিত্য জগতে। আজ ৪ঠা মার্চ। আজকের দিনেই জন্মগ্রহণ করেন তরুলতা দত্ত ওরফে তরু দত্ত। ১৮ বছর বয়সে, তরুর লেখা  ফরাসি কবি লেকন্টে ডি লিসেল এবং জোসেফিন সোলারির উপর  নিবন্ধগুলি বেঙ্গল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। সাহিত্যিক হিসেবে এটি ছিল একক প্রকাশিত লেখা যা তাঁর পরবর্তী  সাহিত্যকর্মের পথ প্রশস্ত করেছিল। তরু  প্রচুর ফরাসি কবিতা ইংরেজিতে অনুবাদ করতে শুরু করেছিলেন,  বেশ কয়েকটি খণ্ড আকারে তা প্রকাশিত হয় এবং  যথেষ্ট প্রশংসা লাভ করে।  ইংল্যান্ড-এ ফরাসি ভাষায় উচ্চশিক্ষা লাভ করেন তরু দত্ত। ১৮৭১ - ১৮৭৩ সাল। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে "হাইয়ার লেকচারস ফর উইমেন" -এ যোগদা...

গল্প নয়, সত্যি! লটারির টাকায় তৈরি হয়েছিল আজকের কলকাতা

Image
লটারি খেলার টাকা থেকেই তৈরি হল যত কিছু বড় রাস্তা, বড় বড় বাড়িঘর। যেমন টাউন হল, স্ট্যান্ড রোড ওয়েলিংটন স্কয়ার, কলেজস্ট্রিট, আমহাস্ট স্ট্রিট।  পলাশীর যুদ্ধ হয়ে গেছে। ইংরেজরা তখন বাংলা বিহার উড়িষ্যার দেওয়ান। ভালো করে দেশটাকে চালাতে গেলে তো একজন গভর্নরের দরকার। ক্লাইভ গেছেন স্বদেশে। গভর্নর করা হলো মিস্টার ভেরলেস্টকে। তারপর জন কার্টিয়ার। দুজনের কেউই খুব একটা যোগ্য লোক নয়। আরো বুদ্ধিমান আরো বিচক্ষণ কাউকে চাই। তেমন কে আছে চলল খোঁজখবর। নজর পড়লো হেস্টিংস এর দিকে।আর তারপর টানা ১৩ বছর চালিয়েছিলেন তার রাজত্ব। একা দায়িত্ব নিয়ে তৈরি করেছিলেন প্রাসাদ নগরী আজকের কলকাতা। ১৭৭২ থেকে ১৭৮৫ এই ১৩ বছর জুড়ে হেস্টিংস বাংলার গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। ফরাসি ভাষায় ছিলেন পন্ডিত। বহুদিন কেটেছে কাশিমবাজারে, তাই দেশি চালচলন আচার-আচরণ ধাতস্থ। পলাশীর পর মীরজাফরের রাজদরবারে তিনি ছিলেন রেসিডেন্ট।তার আমলেই 76 এর মন্বন্তর। তার আমলেই মহারাজা নন্দকুমারের ফাঁসি। আমোদ-আহ্লাদ, বিলাসিতা, বাবুগিরি চরম সেও তার আমলে। টলি নালা পেরিয়ে আলিপুরে হেস্টিংস এর বিলাস বহুল গৃহ। আরো অনেক বাগানবাড়ি ছিল। লর্ড কার্জ...