Skip to main content

ভগবান কে পাওয়া সহজ নয়! কিন্তু কেন? উত্তর দিচ্ছেন ভগবান স্বয়ং

পরীক্ষার রেজাল্টের দিন ঠাকুরের কথা মনে পরে। কোন বিপদে পড়লে ঠাকুরের কথা মনে পরে। কিন্তু কোন আনন্দ মুহূর্তে কি আমাদের মনে পড়ে ঠাকুরকে?

দুঃখ পেয়ে কি হবে? জীবনে দুঃখ ছাড়াও অনেক কিছু পাওয়ার আছে। কিন্তু আমরা কি তা ভাবি? ভাবিনা। ইঁদুর দৌড়ের এই জীবনে নেতিবাচক চিন্তা সর্বদাই গ্রাস করে আমাদের। প্রতিদিন ছুটে চলি আমার কি নেই তার পিছনে। কখনও এটা ভাবিনা আমার কি আছে? আমার যা আছে আমি তার জন্য কার কাছে কৃতজ্ঞ?

 

কুরুক্ষেত্রের রণাঙ্গনে দাড়িয়ে অর্জুন যখন দেখলেন তাঁর সমস্ত আত্মীয়-স্বজনদের। তিনি অনুভব করলেন তাদের সাথে তাঁকে যুদ্ধ করতে হবে তখন তিনি ভগবান কৃষ্ণ কে বলেছিলেন,

ন চ শ্রেয়োহনুপশ্যামি হত্বা স্বজনমাহবে।

ন কাঙ্ক্ষে বিজয়ং কৃষ্ণ ন চ রাজ্যং সুখানি চ।।১/৩১।।

 

অর্থাৎ হে কৃষ্ণ! যুদ্ধে আত্মীয়-স্বজনদের নিধন করা শ্রেয়স্কর দেখছি না। আমি যুদ্ধে জয়লাভ চাই না, রাজ্য এবং সুখভোগও কামনা করি না। সব শুনে শ্রীকৃষ্ণ বলেছিলেন,

 

যং হি ন ব্যথয়ন্ত্যেতে পুরুষং পুরুষর্ষভ।

সমদুঃখসুখং ধীরং সোহমৃতত্বায় কল্পতে।।২/১৫।।

অর্থাৎ, হে পুরুষশ্রেষ্ঠ (অর্জুন)! যে জ্ঞানী ব্যক্তি সুখ ও দুঃখকে সমান জ্ঞান করেন এবং শীত ও উষ্ণ আদি দ্বন্দ্বে বিচলিত হন না, তিনিই মুক্তি লাভের প্রকৃত অধিকারী।  

এই পৃথিবীর সব কিছুই প্রায় অনিশ্চিত। নিশ্চিত কেবলমাত্র মৃত্যু। গীতাতে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,

জাতস্য হি ধ্রুবো মৃত্যুর্ধ্রুবং জন্ম মৃতস্য চ।

তস্মাদপরিহার্যেহর্থে ন ত্বং শোচিতুমর্হসি।। ২/২৭ ।।

যার জন্ম হয়েছে তার মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী এবং যার মৃত্যু হয়েছে তার জন্মও অবশ্যম্ভাবী। অতএব অপরিহার্য কর্তব্য সম্পাদন করার সময় তোমার শোক করা উচিত নয়।

কর্তব্য। এই একটি শব্দ আমাদের হাত পা বেঁধে দেয়। কিন্তু আমরা চাইলেই সব পারি। কিন্তু করি কি? পরীক্ষার রেজাল্টের দিন ঠাকুরের কথা মনে পরে। কোন বিপদে পড়লে ঠাকুরের কথা মনে পরে। কিন্তু কোন আনন্দ মুহূর্তে কি আমাদের মনে পড়ে ঠাকুরকে? কারোর কারোর হয়ত পড়ে। মন্দিরে গিয়ে আমরা কি কখনও বলি ঠাকুর আমি তোমার জন্য এটা করব। এটা অবশ্যই বলি যে, হে গোবিন্দ আমি তোমার জন্য এটা করব কিন্তু আমাকে এটা পাইয়ে দাও ওটা করে দাও।

ভগবান বলছেন, “নরকের তিনটে দরজা হয়- কামনা, ক্রোধ এবং লোভ।” ভেবে দেখুন আমরা কেউ-ই এর থেকে কি মুক্ত? কিন্তু নরকের ধারনা আমাদের কাছে স্পষ্ট। কথায় আছে না, ভগবান কে পাওয়া অত সহজ নয়? এর উত্তর ভগবান স্বয়ং নিজে দিয়েছেন। ভগবান বলেছেন- “যে প্রাণী লোভ , মায়া , ক্রোধ , অশান্তি , ঈর্ষা , থেকে মুক্তি আমি তার মধ্যে বিরাজ করি ।”

যে মানুষটা সারাজীবন ভগবান মানেনি, ঠাকুরের দিকে ঘুরেও তাকায়নি নিজেকে নাস্তিক প্রমাণ করার জন্য, তাঁরও শেষ যাত্রায় কেউ না কেউ হয়ত মনে মনে হলেও হরির নাম নেবে। কেন নেবে জানেন? এটাই প্রকৃতির নিয়ম। ভগবান চার কষ্টের কথা বলেছেন। জন্ম, মৃত্যু, জরা ও ব্যাধি। চার কষ্টের মধ্যে “মৃত্যু" ব্যাতিক্ৰম। মৃত্যু সবচেয়ে ভয়ানক। জন্ম ভূমিষ্টকালীন কষ্ট। ব্যাধি, রোগজাত কষ্টসমূহ। জরা, বাধক্যজনিত কষ্টের অভিজ্ঞতা। মৃত্যু, কষ্টের মধ্যে অনন্য সাধারণ। 

মৃত্যু সম্বন্ধে কারো কোন ধারণা ও অভিজ্ঞতা নেই। জরার মতো মৃত্যু নিদিষ্ট পরে আসে না। রোগের মতো বারবার আসে না। মৃত্যুর অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই হবে। মুহুৰ্তকাল মাত্ৰ থাকবে। আমাদের জীবনের আসল লক্ষ্য “মৃত্যুবরণের কৌশল"।


শ্ৰীকৃষ্ণ গীতায় শিক্ষা দিয়েছেন, কিভাবে মরতে হবে? কিভাবে মৃত্যুকে জয় করবে? তিনি আরও বলেছেন, মৃত্যুর সময়ে যিনি আমাকে স্মরণ করে দেহত্যাগ করেন তিনি তৎক্ষনাৎ আমার ভাবই প্রাপ্ত হন। এই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই''। মহাপ্রভুও বলেছেন- মৃত্যু ভয়কে জয় করতে নিরন্তর কৃষ্ণনাম করুন।

বাকিটা আপনার ব্যক্তিগত। 


Comments

Popular posts from this blog

জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার ১৭২ বছর

স্যার ম্যাকক্লিল্যান্ডের ১৮৪৮-৪৯ সময়কালের প্রথম রিপোর্টে ‘জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’ শব্দগুচ্ছ প্রথমবারের মতো ব্যবহূত হয়। কলকাতা। যার ঐতিহাসিক গুন বেড়েই চলেছে দিন দিন। নানা জানা অজানা ইতিহাসের সাক্ষী আজকের এই কলকাতা। আজ থেকে ১৭১ বছর আগে নৌপরিবহণ ও অন্যান্য উদ্দেশ্যে ভারতীয় কয়লা ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাই করতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কয়লা সংক্রান্ত একটি কমিটি (Coal Committee) গঠন করে। ১৮৩৭ ও ১৮৪৫ সালে কমিটির সচিব স্যার জন ম্যাকক্লিল্যান্ড প্রথমবারের মতো ট্রেনিংপ্রাপ্ত ভূতাত্ত্বিকদের নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেন। স্যার ম্যাকক্লিল্যান্ডের ১৮৪৮-৪৯ সময়কালের প্রথম রিপোর্টে ‘জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া’ শব্দগুচ্ছ প্রথমবারের মতো ব্যবহূত হয়। ১৮৫০ সালের ১ এপ্রিল তাঁর অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত ‘অফিসিয়েটিং সার্ভেয়র’ হিসেবে ভূতাত্ত্বিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে ছিলেন। ১৮৫১ সালের ৫ মার্চ তারিখে স্যার টমাস ওল্ডহ্যাম ভূতাত্ত্বিক জরিপকারীর দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তখন থেকে অনেক নতুন খনিক্ষেত্র আবিষ্কারে ও মৃত্তিকা বিজ্ঞানে বিরাট সাফল্য-অর্জনে ‘জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার’ উজ্জ্বল কৃতিত্ব...

যে জিনিস আমার নয় তার জন্য শোক করে কি হবে?

শরীর আমাদের সঙ্গে এক মুহূর্তও থাকেনা কিন্তু পরমাত্মা থাকেন সর্বক্ষণ। বাসাংসি জীর্ণানি যথা বিহায় নবানি গৃহ্ণাতি নরোহপরাণি । তথা শরীরাণি বিহায় জীর্ণান্যন্যানি সংযাতি নবানি দেহী ॥২২॥ এই জগৎসংসার সর্বদাই পরিবর্তনশীল। জগৎ সংসারকে একবারও দেখতে পাওয়া যায় না। কারণ শরীর, সকল ইন্দ্রিয়, মন, বুদ্ধি ইত্যাদি যে করণ দ্বারা আমারা জগতকে দেখি, জগতকে অনুভব করি সে গুলো ও জগতেরই। সুতরাং জগতই জগতকে দেখে।এই জগৎসংসারে শরীর কেবল একটি ছোট্ট প্রতীক।উৎপত্তির পূর্বে শরীর ছিল না, মৃত্যুর পরেও শরীর থাকবে না এবং বর্তমানেও তা লয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এই জগতে মাত্র দুই প্রকার বস্তু আছে, শরীরী এবং শরীর। এই দুটিই অশোচ্য। অর্থাৎ এর জন্য শোক করা উচিত নয়। যে জিনিসটি নিজের নয় আর যে জিনিসটি নিজের তাকে নিজের মনে না করা বিরাট ভুল। শরীর আমাদের সঙ্গে এক মুহূর্তও থাকেনা কিন্তু পরমাত্মা থাকেন সর্বক্ষণ। ও যেমন পরম থাকেন নিরাকারে খেলছেন খেলা নিরেতে আর জীবআত্মা জীবিত থাকে পরমআত্মার জোরেতে এই আদি সত্য পরম যিনি জীব দেহ চালাচ্ছেন তিনি। জীবের মত ভগবানও ক্ষেত্রজ্ঞ, চেতন। তবে আমরা কেবল আমাদের দেহ সম্বন্ধে সচেতন।কিন্তু ভগবান সমস্ত দেহ সম্বন্ধে সচে...